রাত পোহালেই শুরু হবে বিপিএল দ্বাদশ আসরের নিলাম।তবে নিলামের আগের দিনেই ক্রিকেট পাড়ায় অনুভূত হচ্ছে ভয়াবহ উত্তেজনা।আজ দুপুর ঠিক ১২.১০ মিনিটে অ্যালেক্স মার্শালের দুর্নীতি বিরোধী দল ঘোষণা দেয় যে এনামুল হক বিজয় সহ মোট ৯ জন ক্রিকেটার এবারের বিপিএল আসরে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং আরও জানানো হয় যে তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।বিপিএল নিলাম থেকে বাদ দেওয়ার পর এনামুল হক বিজয় ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ খুলেছেন।বাদ পড়ার পর কি বলেছেন তিনি ?বিপিএল 2026 খেলোয়ার তালিকা ও সময়সূচী দেখে নিন।
বিপিএল ফিক্সিং
গেলো বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছেন এনামুল হক বিজয়।যারা গত বিপিএল দেখেছে তারা জানে যে পুরো বিপিএল জুড়ে নানান অনিয়মের কারণে বারবারই হাইলাইট হয়েছিল দলটি।খেলার মাঠ থেকে শুরু করে মাঠের বাইরে সব জায়গায় যেনো এলোমেলো ছিল দুর্বার রাজশাহী।খেলোয়াড়দের বেতন কান্ড,ম্যাচ ফিক্সিং ও মাঠে বাজে পারফর্মেন্স সহ বিভিন্ন কারণে সমালোচিত হচ্ছিল এই দল।ফিক্সিং এর অভিযোগ উঠলে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট (আকসু)’র একটি লোকাল ইউনিট তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে তদন্তের কাজ আরও বেগবান করার জন্য আরেকটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তারপর সেই কমিটি একটি ৯০০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট তৈরি করে যা পরবর্তীতে রিভিউ করেন অ্যালেক্স মার্শাল।পুরো রিপোর্ট ও অন্যান্য এভিডেন্স পর্যালোচনা করে আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রোজ শনিবার দুপুর ১২.১০ মিনিটে তিনি এনামুল বিজয় সহ আরও ৮ ক্রিকেটারকে এই আসরে বিপিএল খেলতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।
বিপিএল ফিক্সিং কান্ডে কারা নিলাম থেকে বাদ পড়লেন
মোট ৯ জন ক্রিকেটারকে ফিক্সিং কান্ডে বাদ দেওয়া হয়।তারা হলেন-
- এনামুল হক বিজয়
- মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত
- নিহাদুজ্জামান
- আলাউদ্দিন বাবু
- মিজানুর রহমান
- সানজামুল ইসলাম
- শফিউল ইসলাম
- শিহাব জেমস
- মনির হোসেন খান
এদের মধ্যে শিহাব জেমস ও মনির হোসেন খানের বাদ দেওয়ার কারণ ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রথম ৭ জন আগে থেকেই ফিক্সিং কান্ডের জন্য রেড জোনে ছিলেন।শামসুর রহমান শুভ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিপিএলের নিলাম থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেন।এছাড়াও গত বিপিএলের মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের সাথে জড়িত এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে আরও ২ জন এই ফিক্সিং কান্ডের সাথে জড়িত।তারাও এবছর বিপিএলে কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।নতুন অন্তর্ভুক্তি হিসেবে আলিস আল ইসলাম ক্যাটাগরি ‘সি’ তে জায়গা পান।
ফিক্সিং নিয়ে এনামুল হক বিজয় এর বক্তব্য
একাধিক গণমাধ্যমে বিজয় ইতোমধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়েছেন।বাদ পড়া নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন-“আমরা কি যা-তা প্লেয়ার!আমরা কি বাংলাদেশের জন্য খেলতেছিনা!আমাদের কি এতটুকু সম্মান নাই!হুট করে নিলাম থেকে বাদ দেওয়া যায় ? ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে আমাকে ক্যাটাগরি ‘সি’ তে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এটাই তো অসম্মানের।এখন আবার নিলাম থেকেই বাদ দেয়া হইছে।এটা কি হতে পারে!আমি যদি দোষী হই তাহলে প্রমাণ দেখান।আর যদি প্রমাণ না দেখাইতে পারে তাহলে আমাকে যে অসম্মান করা হচ্ছে এটার ব্যাখ্যা কে দিবে?”
বিজয়কে প্রশ্ন করা হয় -“আপনার কি কোনো ধারণা ছিলো যে এরকম কোনো ঘোষণা আসতে পারে?”
বিজয়ের উত্তর:”এটা কেন হবে?কিভাবে হলো?কিচুই জানতাম না আমি”
প্রশ্ন:”এখন আপনি কি কোনো ধরনের স্টেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন?”
বিজয়:”আমার উকিলকে বিষয়টি অবগত করেছি।তিনি যাচ্ছেন,একটা কনফারেন্স হবে।আমি বিসিবির এগেইন্সটে সর্বোচ্চ যা স্টেপ নিতে পারি তার সবগুলো আমি নেব।আমি নিজেকে প্রোটেক্ট করার জন্য,নিজের সম্মান রক্ষার জন্য যা স্টেপ নেওয়া দরকার সবগুলো আমি নিব”
প্রশ্ন:”এর আগে কি আপনাকে কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ বা ইনভেস্টিগেশন করা হয়েছিল?”
বিজয়:”হ্যাঁ।জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।আমাকে যা প্রশ্ন করা হইছে তার উত্তর দিয়েছি সুন্দর করে।আমি এমন কোনো কিছু করি নাই যার কারণে আমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে হয়তো আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিন্তু আমার ইন্টেনশন খারাপ ছিল না।আশা করি আমার দিকেই ফয়সালা আসবে “
এছাড়াও ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন-“বিসিবি রেসপন্স করলে লাইভটা করা লাগতো না। আমি দোষী হয়ে থাকলে প্রমান চাই,দোষী হলে আজীবনের জন্য ব্যান করে দেন। অনেকের কাছে আমি পছন্দের প্লেয়ার না,ভালো টিমমেট না।ঠিক আছে! আমার আর খেলা লাগবে না যদি দোষী হয়ে থাকি। আর যদি নির্দোষ হই ছোট যে হচ্ছি এটার ফিডব্যাক কে দিবে?সম্মান কে ফেরত দিবে?”।

