প্রকাশিত হয়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি।উক্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে আজকের অনুচ্ছেদে।তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের ভর্তি বিজ্ঞপ্তির A টু Z সকল তথ্য জানতে সম্পূর্ণ লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনুষ্ঠিতব্য অন্যান্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এক জায়গায় দেখুন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ ২০২৬
গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ রোজ বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি কলেজ সমূহে পাঠদানের লক্ষ্য ২০২৫-২৬ সেশনের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।উক্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির খুঁটিনাটি সকল তথ্য আপনাদের কাছে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য নিম্নে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো।
আরও দেখুন:জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময়সীমা
আগামী ২৩ নভেম্বর রোজ রবিবার বিকাল ৪ টা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসমুহে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষার অনলাইন প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে।এই আবেদনের কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১.৫৯ মিনিট পর্যন্ত।উক্ত সময়সীমার (২৩/১১/২০২৫ থেকে ৩১/১২/২০২৫) মধ্যে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ ও এর প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহ করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি
প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।উক্ত ফি শিক্ষার্থীরা যে কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক সে কলেজে সরাসরি গিয়ে অথবা কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ এর ভেতর পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচী
যে সকল শিক্ষার্থী অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করেছেন তাদের আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপিতে একটি Application ID ও Pin Number দেওয়া থাকবে।ভর্তি পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখের সাত দিন পূর্বে এই লিংকে গিয়ে উক্ত Application ID ও Pin Number দিয়ে লগইন করলেই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশ পত্র ডাউনলোড করতে পারবে।উক্ত প্রবেশপত্রেই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ,সময়,পরীক্ষার কেন্দ্র ও রোল নম্বর উল্লেখ করা থাকবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি
প্রত্যেক বিভাগের জন্য মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সম্পূর্ণ ভর্তি পরীক্ষাটি হবে MCQ পদ্ধতিতে।মোট ১০০ টি MCQ থাকবে এবং প্রতিটি MCQ এর পূর্ণমান থাকবে ১ করে।ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা যাবে না অর্থাৎ কোনো প্রকারের নেগেটিভ মার্কিং থাকবে না।নির্ধারিত ১ ঘন্টা সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা
২০২৫-২৬ সেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৮৫ টি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের জন্য ন্যূনতম যেসব যোগ্যতা থাকা দরকার তা হলো-
- যে সকল শিক্ষার্থী ২০২২ অথবা ২০২৩ সালে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষা এবং ২০২৪ অথবা ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কেবল তারাই এ বছর ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবে।
- পরীক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় যে বিভাগ বা শাখা থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে তাকে কেবল সেই বিভাগ বা শাখার জন্য নির্ধারিত প্রাথমিক আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।যেমন: যে বিজ্ঞান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তাকে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য নির্ধারিত প্রাথমিক আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
- যে সকল শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি শাখা থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে মানবিক শাখার আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কোনো কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত কোনো শিক্ষার্থী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হতে পারবেনা।যদি ২০২৪-২৫ সেশনে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত যেকোনো কোর্সের শিক্ষার্থী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স ১ম বর্ষের যেকোনো কোর্সে ভর্তি হতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই আগের বছরের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বাতিল করতে হবে।
- যদি কোনো শিক্ষার্থীর দ্বৈত ভর্তির আলামত পাওয়া যায় তাহলে তার উভয় ভর্তি এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।
জিপিএ ভিত্তিক যোগ্যতা
- ব্যবসায় শিক্ষা,মানবিক,বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স শাখা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষা এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে।উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে মোট জিপিএ ন্যূনতম ৪.৫০ থাকতে হবে।
- বিজ্ঞান বিভাগ ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড (ভোকেশনাল) শাখা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.২৫ এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে।উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে মোট জিপিএ ন্যূনতম ৪.৭৫ থাকতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন
ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যেক বিভাগ যেমন বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা,মানবিক/গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের জন্য বাংলা,ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান থেকে ২০ টি করে মোট ৬০ টি প্রশ্ন থাকবে।অর্থাৎ সকল বিভাগের ৬০ নম্বরের প্রশ্ন একই থাকবে।আর বিভাগীয় বিষয় থেকে থাকবে মোট ৪০ নম্বর।সহজে বুঝার জন্য প্রত্যেক বিভাগের টা আলাদা করে দেওয়া হলো-
বিজ্ঞান বিভাগ
| বিষয় | নম্বর |
| বাংলা | ২০ |
| ইংরেজি | ২০ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২০ |
| HSC তে বিজ্ঞান বিভাগে পঠিত বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ প্রশ্ন | ৪০ |
| মোট | ১০০ |
মানবিক/গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ
| বিষয় | নম্বর |
| বাংলা | ২০ |
| ইংরেজি | ২০ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২০ |
| HSC তে মানবিক/গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে পঠিত বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ প্রশ্ন | ৪০ |
| মোট | ১০০ |
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ
| বিষয় | নম্বর |
| বাংলা | ২০ |
| ইংরেজি | ২০ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২০ |
| HSC তে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পঠিত বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ প্রশ্ন | ৪০ |
| মোট | ১০০ |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ হিসাব
মূল পরীক্ষায় থাকছে ১০০ নম্বর।আর এর বাইরে জিপিএর উপর থাকছে আরও ১০০ নম্বর।অর্থাৎ মোট ২০০ নম্বরের উপর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।জিপিএর ১০০ নম্বরের মধ্যে এসএসসি এর উপর থাকছে ৪০ নম্বর এবং এইচএসসি এর উপর থাকছে মোট ৬০ নম্বর।এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ (4th সাবজেক্টসহ) এর ৪০ শতাংশ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ (4th সাবজেক্টসহ) এর ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে ১০০ তে কত আসে সেই হিসেব করে জিপিএ এর উপর নম্বর দেওয়া হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে কবে
ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের পর সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টা বা ৩ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ পরিবর্তন
বিভাগ পরিবর্তন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পরীক্ষা দেওয়ার নিয়ম নাই।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসি ২০২৫ এর শর্ট সিলেবাস অনুযায়ী।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস মার্ক কত
১০০ নম্বরের মধ্যে ৩৫ নম্বর পেলে পাশ।এটা নিয়ে একটা ভুল ধারণা আছে।অনেকে মনে করে একটু কম নম্বরে ফেল করলেও শূন্য আসন থাকা সাপেক্ষে সিট পাওয়া যেতে পারে।যা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারনা।পাশ করলে তবেই সিট পাবে।ফেল করলে নয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কি বিষয়ভিত্তিক পাস আছে
না,বিষয়ভিত্তিক পাস নেই।টোটাল ৩৫ মার্ক পেলেই পাস।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে
না।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং নেই।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়টি বিষয়ের উপর অনার্স চালু আছে
৩১ টি বিষয়ের উপর।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ কয়টি
৮৮১ টি।

