পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের ৫ যুক্তি
জাতীয় পে কমিশন © ফাইল ছবি

পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের ৫ যুক্তি

পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের ৫ যুক্তি—এই দাবিকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবারও সোচ্চার হয়েছেন। পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের ৫ যুক্তি তুলে ধরে দ্রুত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি)। সোমবার (২ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের প্রত্যাশা—পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের ৫ যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর প্রায় ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নবম পে-স্কেল এখনো ঘোষণা হয়নি—যা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়—সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ বর্তমান বেতন কাঠামোয় তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক চাপে পড়ছেন এবং তাদের জীবনমান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে ৫টি প্রধান যুক্তি

১. দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত
সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার প্রচলন থাকলেও এক দশকের বেশি সময় ধরে তা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

২. দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু বেতন কাঠামো সেই অনুপাতে সমন্বয় হয়নি।

৩. সরকারি চাকরির আকর্ষণ কমে যাওয়া
বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

৪. প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি
ন্যায্য ও যুগোপযোগী বেতন নিশ্চিত হলে কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ বাড়বে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করবে।

৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কর্মচারীরা আরও চার দফা দাবি জানিয়েছেন—
১) অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ,
২) বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণ,
৩) সকল গ্রেডে বেতন বৈষম্য হ্রাস,
৪) কল্যাণমূলক আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে তারা বলেছেন, মানবিক নেতৃত্বে দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য দাবির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়া হবে। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫–এর চূড়ান্ত সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *